দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জনস্বাস্থ্য ও রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে ইয়ুথ লিডার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. রাকিব আল হাসান এই সংকটের কারণ ও দায়বদ্ধতা নিয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন।
ডা. রাকিব আল হাসান বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ এবং এর ‘হার্ড ইমিউনিটি’ নিশ্চিত করতে হলে টিকাদানের হার অন্তত ৯৫ শতাংশ থাকা জরুরি। তিনি দাবি করেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে এই হার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে গ্যাভি (Gavi) থেকে টিকা সরবরাহ বন্ধ রাখা এবং সমন্বয়ের অভাবে তা ৬০ শতাংশে নেমে আসে।” তার মতে, টিকাদানের এই বিশাল ঘাটতির ফলেই এখন শিশুরা ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হচ্ছে এবং এমনকি বয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।
সংক্রামক রোগের গাণিতিক সূত্রের উল্লেখ করে ডা. রাকিব বলেন, “তদন্তে বেরিয়ে আসবে এই পুরো দায়টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের। এখানে হাসিনা সরকারের কোনো দায় নেই, এমনকি বিএনপি সরকারেরও কোনো দায় নেই।” তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে টিকা সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় মারাত্মক গাফিলতি হয়েছে। তবে তিনি বর্তমান সরকার কর্তৃক মাত্র ৩৪ দিনে ১৫ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও, চলমান সংক্রমণকে ‘ন্যাশনাল ক্রাইসিস’ বা জাতীয় সংকট হিসেবে ঘোষণা করার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকারে ডা. রাকিব গত প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার অযোগ্যতারও সমালোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাঝপথে ভিটামিন এ ক্যাপসুল, টিবির টিকা এবং প্রোস্টেট ক্যান্সারের রিএজেন্ট সরবরাহ বন্ধ রাখার মতো ঘটনাগুলো কর্তৃপক্ষের ‘অথর্ব’ ও ‘অযোগ্য’ হওয়ারই প্রমাণ। তিনি বলেন, “শিশুদের মৃত্যু নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলছে, তাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক বিচারের আওতায় আনা উচিত।”
চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলার পরামর্শ দেন ডা. রাকিব। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র শোক প্রকাশ বা নিন্দা জানানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে বিচারের ব্যবস্থা করা উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে জাতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে বড় ধরণের ঝুঁকি থেকে যাবে।
Leave a comment