প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর নেত্রী ইসরাত জাহান ইমু।
বুধবার (৬ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে হামে আক্রান্ত হয়ে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসরাত জাহান ইমু বলেন, ‘সারাদেশে দেড় হাজারেরও বেশি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তিন শতাধিক শিশু হাসপাতালে মারা গেছে।
এর বাইরেও প্রান্তিক ও পাহাড়ি দুর্গম অঞ্চলে কত শিশু হামসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও নিহত হচ্ছে তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের জানা নেই।’তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যেসব রোগ একসময় প্রায় বিলুপ্তির পথে ছিল সেগুলো (হাম, রুবেলা ও পোলিও) আবার বাংলাদেশে ফিরে আসছে। অথচ শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমিয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে একটি ইতিবাচক অবস্থানে পৌঁছেছিল।
একটি দেশের অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ডই হলো শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার। কিন্তু বর্তমানে আমরা সেই অবস্থান থেকে কয়েক ধাপ পিছিয়ে গেছি। সংস্কারের নামে বাংলাদেশ আরও বেশি শিশু মৃত্যুর ঝুঁকির দিকে ধাবিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক’এ নেত্রী বলেন, ‘ আমাদের দাবি এ মৃত্যুগুলোর জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা।
শিশু মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পেছনে যে নীতিগত ও পলিসিগত ব্যর্থতা রয়েছে তার দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। আমরা মনে করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের নীতিগত ব্যর্থতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’তিনি বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাপী তার ‘থ্রি জিরো’ নীতির জন্য পরিচিত। কিন্তু আজ বাস্তবতা হলো, সেই ‘থ্রি জিরো’র সঙ্গে যেন আরেকটি ‘ফোর জিরো’ যুক্ত হয়েছে।
আর সেটি হলো সংস্কারের নামে অব্যবস্থাপনা ও প্রাণহানির দায়।’ইমু বলেন, ‘এসব শিশুর মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ছিল সময়মতো টিকা না পাওয়া। বাংলাদেশে প্রতিবছর ইউনিসেফের মাধ্যমে যে প্রক্রিয়ায় টিকা সরবরাহ করা হয়, সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা পর্যাপ্ত মজুত ছাড়াই নতুন দরপত্রের মাধ্যমে টিকা আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আগেই সতর্ক করেছিল যে নতুন এই প্রক্রিয়ায় টিকা আসতে প্রায় ১২ মাস সময় লাগবে। এর ফলে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের দেশের প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় বিচার করতে হবে।’
Leave a comment