ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওয়াল স্ট্রিটে যখন স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল, ঠিক তখনই তেলের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সেই ইতিবাচক ধারাকে থামিয়ে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম এক দিনেই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১১.১৮ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জুলাই মাসের সরবরাহের চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম ২.৬ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৩৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তেলের দাম যেখানে ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের কাছাকাছি ছিল, সেখান থেকে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে এটি ১১৯ ডলারের ঐতিহাসিক উচ্চতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের আশঙ্কা এবং জোগান সংকটের ভয়ই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক অচলবস্থা। খবর পাওয়া গেছে যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন অবরোধ শিথিল করার একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন সম্ভবত এই প্রস্তাব গ্রহণ করবে না। এছাড়া ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত রাখার যে দাবি তুলেছে, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেল পরিবহন রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ থাকার আশঙ্কা তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ববাজারের এই আঁচ সরাসরি লেগেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় জ্বালানি বাজারেও। অটো ক্লাব এএএ-এর তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার দেশটিতে গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪.১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ রেকর্ড। সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এই অতিরিক্ত ব্যয় জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে এবং ইরান সংকটের উত্তাপ বাড়তে থাকে, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার বা তার বেশি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে।
Leave a comment