লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিল নির্বাচনে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ফরহাদ হোসেন। তিনি শুধু একজন মেয়র প্রার্থীই নন, বরং তাঁর স্বপ্ন ও সাহসিকতা পুরো ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তাঁর একটি সাক্ষাৎকার ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে ব্রিটেনের শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো বাংলাদেশির উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
ফরহাদ হোসেনের জন্ম লন্ডন-এ হলেও তাঁর শিকড় বাংলাদেশে। আশির দশকে তাঁর পরিবার নিউহ্যামে স্থায়ী হয়। তিনি ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন থেকে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে আসার আগে শিক্ষকতা, এন এইচ এস-এ প্রজেক্ট ম্যানেজার এবং ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি নিউহ্যাম কাউন্সিলের ক্যাবিনেট মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আগামী ৭ মে ২০২৬-এ নিউহ্যামে সরাসরি মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে লেবার পার্টি-এর প্রার্থী হিসেবে ফরহাদ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁর মূল লক্ষ্য হাউজিং সমস্যা সমাধান, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। নিউহ্যামে বাংলাদেশি কমিউনিটির বড় একটি ভোট ব্যাংক থাকায় তাঁর অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে অনেকেই তুলনা টানছেন বর্তমান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক-এর সঙ্গে। তাঁদের মতে, যখন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কেউ ব্রিটেনের নেতৃত্ব দিতে পারেন, তখন ভবিষ্যতে একজন বাংলাদেশিও ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছাতে পারেন। এই প্রেক্ষাপটে ফরহাদ হোসেনের রাজনৈতিক উত্থানকে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী স্বপ্নের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছেন।
তবে নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই কিছু বিতর্কও সামনে এসেছে। ২০১৬ সালের একটি ফ্ল্যাট কেনা নিয়ে তদন্তের খবর প্রকাশ পেলেও ফরহাদ হোসেন তা অস্বীকার করে একে নোংরা রাজনীতি বলে মন্তব্য করেছেন। এসবের মাঝেও তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জনসংযোগে সক্রিয় রয়েছেন।
প্রবাসে নতুন প্রজন্মের এই রাজনৈতিক অগ্রগতি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়। এখন দেখার বিষয়, ফরহাদ হোসেন নিউহ্যামের মেয়রের দায়িত্ব অর্জন করে ভবিষ্যতের আরও বড় স্বপ্নের পথে কতদূর এগিয়ে যেতে পারেন।
Leave a comment