রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ১৬ বছর আগে সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর তার গোপনাঙ্গ কর্তন ও অঙ্গহানি করে আজীবন ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার লোমহর্ষক ঘটনায় রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এই জঘন্য অপরাধে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং বয়স বিবেচনায় অপর দুই আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন। আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সালাউদ্দিন, মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে কোরবান মিয়া এবং খন্দকার ওমর ফারুক। এছাড়া মো. রমজান ও সাদ্দামকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে ।
দণ্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেকের জন্য ৫ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত, যা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে প্রদান করতে হবে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ৬ মে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সাত বছরের ওই শিশুটিকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায় আসামিরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শিশুটিকে পঙ্গু করে ভিক্ষাবৃত্তিতে লাগানো। তারা নির্জন স্থানে নিয়ে শিশুটির লিঙ্গ কর্তন করে এবং ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা করেন।
২০১১ সালের মে মাসে র্যাব-১-এর পক্ষ থেকে অভিযোগপত্র দাখিলের পর বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। মামলা চলাকালীন ট্রাইব্যুনাল মোট ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ারুল আমিন চৌধুরী (হারুন) বলেন, “এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে এক কঠোর বার্তা পৌঁছেছে যে শিশুদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলাকারীদের রেহাই নেই।”
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শরিফুল ও ওমর ফারুক কারাগারে থাকলেও সালাউদ্দিন, রমজান ও সাদ্দাম পলাতক রয়েছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় কাউসার ও নাজমা আক্তার নামে দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment