রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পুলিশের সাবেক দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনের যাবজ্জীবনসহ মোট ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল রায় পাঠ করেন। রায়ে সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে ৩ জনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন আদালত। মামলার অপর ২ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে কি না, তা বিস্তারিত রায়ে পর্যালোচিত হবে।
রায়ের পর আদালত কক্ষ থেকে বের করে নেওয়ার সময় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দায়িত্বরত পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন এবং আদালত প্রাঙ্গণে উচ্চস্বরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সাজাপ্রাপ্তরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমরা এই রায় মানি না। আমাদের ফাঁসানো হয়েছে, আমরা নির্দোষ।” পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই আসামিদের এমন মারমুখী আচরণ ও রাজনৈতিক স্লোগান আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত আইনজীবী এবং সংবাদকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ভিডিওটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। গত বছরের জুনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আগস্ট থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মোট ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
আইনজীবীরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় এক বড় মাইলফলক অর্জিত হলো। তবে রায়ের পর আসামিদের এমন উসকানিমূলক আচরণ বিচারিক মর্যাদার ওপর আঘাত কি না, তা নিয়ে আইনজীবী মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
Leave a comment