মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে অন্তত পাঁচ দফায় শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার গভীর রাত থেকে ইরানের সামরিক বাহিনী পরিকল্পিতভাবে এই হামলা শুরু করে। সর্বশেষ রোববার দুপুরে চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার তীব্রতা এবং ঘনঘন সাইরেন বাজার ঘটনায় ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, জেরুজালেম এবং মধ্য-ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইরান থেকে ধেয়ে আসা বেশ কিছু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করার দাবি করেছে আইডিএফ। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘অ্যারো’ এবং ‘ডেভিডস স্লিং’ সক্রিয়ভাবে এই আক্রমণ মোকাবিলা করছে।
অন্যদিকে, উত্তর ইসরায়েলের সীমান্ত এলাকায় লেবানন থেকেও রকেট হামলা চালানো হয়েছে। আইডিএফ-এর তথ্যমতে, উত্তর ইসরায়েলে আঘাত হানা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র জনশূন্য উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে। সামরিক প্রটোকল অনুযায়ী, যেসব ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা থাকে, সেগুলোকে সাধারণত মাঝ আকাশে ধ্বংস না করে আঘাত হানতে দেওয়া হয়।
হামলার আশঙ্কায় জেরুজালেম, মধ্য-ইসরায়েল, শফেলা এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই দফায় দফায় হামলা সরাসরি যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে ইরান থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় পুরো দেশ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং আকাশসীমা সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নজরদারি বজায় রাখছে। এই পাল্টা-পাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যা বিশ্বনেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
Leave a comment