পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের কৌশলগত দ্বীপগুলো দখলের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা।
এমন অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা জানান, ইরানের ওইসব স্থানে মার্কিন মেরিন সেনা ও প্যারাট্রুপারদের রসদ সরবরাহব্যবস্থা থাকবে অরক্ষিত আর কৌশলগত লক্ষ্যগুলোও অস্পষ্ট।যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই– এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন অভিযানের শুরুতেই ইরানের রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অচল করতে ইলেকট্রনিক যুদ্ধ পরিচালনা করা হতে পারে। এরপর ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু দুর্বল করার পরিকল্পনা থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক হামলার পর মার্কিন বাহিনীর মূল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে স্থল অভিযানে।
প্রথমে মার্কিন বাহিনী খারগ, আবু মুসা ও কেশম দ্বীপসহ ইরানের কয়েকটি কৌশলগত স্থানে অভিযান চালাতে পারে বলে ধারণা করছে বিশ্লেষকেরা। এর মধ্যে খারগ দ্বীপ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি হয়। তবে কেশম দ্বীপের মতো এলাকায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ড্যানিয়েল ডেভিসের ভাষ্য, এখানে একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায় হলো আকাশপথে অভিযান। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হেলিকপ্টারে নামা সেনারা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও হালকা অস্ত্রের আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকবে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ৫০০ সেনার দুটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট এবং ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ৩ হাজার ছত্রীসেনা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় মিত্র দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েতের ঘাঁটির ওপর নির্ভর করতে হবে। এসব দেশ সহযোগিতা না করলে এমন অভিযান বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।
ইরানের সম্ভাব্য প্রতিরোধ কৌশল হিসেবে ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্থানীয় কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন, যা গেরিলা কৌশলে আক্রমণ জোরদার করবে।
সামরিক বিশ্লেষকেরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো দ্বীপ দখল করতেও সক্ষম হয়, তবু সেটি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, সেনাদের জন্য নিয়মিত রসদ, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা কঠিন হবে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকি থাকবে।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা কালেভ সেপ বলেন, একবার সেনারা অবস্থান নিলে তাদের টিকিয়ে রাখাই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি অনেকটা ‘শুটিং গ্যালারি’ বা মরণফাঁদের মতো হয়ে যেতে পারে।
এদিকে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ইরানের ‘মোজাইক ডিফেন্স’ বা বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা কৌশলও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ । এতে স্থানীয় কমান্ডাররা স্বাধীনভাবে আক্রমণ পরিচালনা করতে পারেন, যা গেরিলা কৌশলে প্রতিরোধকে আরও জোরদার করে।
বিশ্লেষকেরা আরও মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো দ্বীপ দখল করলেও সেটি ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোও ইরানি হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের ভৌগোলিক সুবিধা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জটিল রসদ সরবরাহ পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্য স্থল অভিযান মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment