সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আকাশসীমায় আবারও বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দেশজুড়ে কয়েক দফায় এই হামলা চালানো হয়।
তবে দেশটির শক্তিশালী ও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) অত্যন্ত সফলতার সাথে এসব লক্ষ্যবস্তু আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, “সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মোকাবিলা করছে। আকাশজুড়ে যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, তা মূলত আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করার ফল।”
বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন, কারণ গত চার ঘণ্টার ব্যবধানে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর।
অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েক দফা বড় আকারের হামলা এটিই নির্দেশ করে যে, কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানতে তেহরান মরিয়া হয়ে উঠেছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আবুধাবি ও দুবাইসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ইরানের সাথে চলমান এই সংঘাতের প্রভাবে পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেই এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বিশেষ করে আরব আমিরাত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলো ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোনের মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করতে পারে। ইউএই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা যে কোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মিত্রদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
Leave a comment