Home আন্তর্জাতিক ব্রুকলিনের ‘নরকে’ বন্দী মাদুরো: ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের কারাজীবনের অন্ধকার অধ্যায়
আন্তর্জাতিক

ব্রুকলিনের ‘নরকে’ বন্দী মাদুরো: ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের কারাজীবনের অন্ধকার অধ্যায়

Share
Share

একসময়ের প্রবল প্রতাপশালী রাষ্ট্রপ্রধান থেকে এখন নিউ ইয়র্কের কুখ্যাত ‘মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার’ (MDC)-এর চার দেয়ালের বন্দী—ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর জীবনে এখন শুধুই অন্ধকারের হাতছানি। গত জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনীর হাতে আটকের পর থেকে গত ৮০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ব্রুকলিনের এই জরাজীর্ণ কারাগারে দিন কাটছে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের। মাদক পাচার, অর্থপাচার এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত এই দম্পতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

কারাগারের পরিবেশকে আইনজীবীরা ‘পৃথিবীর নরক’ বলে অভিহিত করেছেন। সাবেক জেল পরিচালক ক্যামেরন লিন্ডসের মতে, মাদুরোর মতো হাই-প্রোফাইল বন্দিদের নিরাপত্তার খাতিরে ‘স্পেশাল হাউজিং ইউনিট’-এ রাখা হয়। এখানে জীবনযাত্রা অত্যন্ত অমানবিক; দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টাই কাটাতে হয় একটি ছোট্ট নির্জন সেলে। বাইরের পৃথিবীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই, এমনকি দরজার ফুটো দিয়ে খাবার পরিবেশন করা হয়। অন্য বন্দিদের সঙ্গে মেলামেশার কোনো সুযোগ নেই এই নিশ্ছিদ্র প্রকোষ্ঠে।

মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গুয়েরা (নিকোলাসিটো) দাবি করেছেন যে, তার বাবা অত্যন্ত দৃঢ় মনোবল নিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করছেন এবং আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘অ্যাথলেটিক’ হয়ে উঠছেন। তবে কারাগারের বাস্তব চিত্র ভিন্ন কথা বলছে। ব্রুকলিন কারাগারটি দীর্ঘকাল ধরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং পচা ও পোকাযুক্ত খাবারের জন্য কুখ্যাত। গত বছর হিপ-হপ মুঘল শন ‘ডিডি’ কম্বসের আইনজীবীরাও এখানে বন্দিদের দেওয়া খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ তুলেছিলেন। বিশেষজ্ঞদেরমতে, মাদুরোর ওজন কমে যাওয়া বা ‘ছিপছিপে’ হওয়ার পেছনে নিয়মিত ব্যায়াম নয়, বরং পুষ্টিহীন খাবার ও মানসিক ধকলই বড় কারণ হতে পারে।

মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, একই মামলার সহ-আসামি হওয়ায় মাদুরো ও তার স্ত্রী ফ্লোরেস একই কারাগারে থাকলেও একে অপরের সঙ্গে কথা বলার বা দেখা করার কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না। আইনজীবীদের উপস্থিতিতে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত সাক্ষাৎ ছাড়া তাদের বিচ্ছেদের দেয়াল ভাঙার কোনো পথ নেই।

আগামী ২৬ মার্চ মাদুরো ও ফ্লোরেসকে পুনরায় আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সেদিনই বিশ্ববাসী প্রথমবারের মতো দেখতে পাবে ক্ষমতাচ্যুত এই দম্পতির বর্তমান অবস্থা। ব্রিটিশ রাজপরিবারের পরিচিত মুখ গিসলেন ম্যাক্সওয়েল কিংবা শন কম্বসের মতো ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখর এই কুখ্যাত কারাগারে মাদুরোর ভবিষ্যৎ এখন মার্কিন আদালতের রায়ের ওপর ঝুলে আছে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব প্রযুক্তির ‘ডলফিন’ সাবমেরিন মোতায়েন করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সমুদ্রপথে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল ইরান। কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ ‘হরমুজ প্রণালি’-তে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও...

ভারতে সম্পত্তির লোভে মা ও ভাইকে গুলি করে হত্যা

ভারতের উত্তর প্রদেশের বান্দা জেলায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক যুবক তার জন্মদাত্রী মা এবং ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা...

Related Articles

ইরান-সংশ্লিষ্ট ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা

যুক্তরাজ্য এবং তার মিত্র দেশগুলোতে ‘বৈরী তৎপরতা’ চালানো এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অভিযোগে...

ব্রিটিশ রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা: কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের সময় চেয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রিসভায় বিভক্তি

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব এখন সুতোয় ঝুলছে। স্থানীয় নির্বাচনে দলের...

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর চলছে  ‘নীরব গণহত্যা’: নগ্ন তল্লাশির অভিযোগ

ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনি নারীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন এবং পদ্ধতিগত...

লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারালেন দুই বাংলাদেশি

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের বলি হলেন আরও দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স...