মধ্যপ্রাচ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকরে তেহরান পাঁচটি কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’-এর বরাত দিয়ে ‘মিডলইস্ট মনিটর’ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবেই এই দাবিগুলো সামনে এনেছে ইরান।
ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—ভবিষ্যতে আর কোনো সামরিক সংঘাত বা যুদ্ধ শুরু হবে না, এমন আন্তর্জাতিক নিশ্চয়তা প্রদান। এছাড়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন ব্যবস্থার দাবি তুলেছে তেহরান, যা কার্যত তাদের একক নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো বন্ধ করা এবং চলমান যুদ্ধে ইরানের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবিও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই দাবিগুলো বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া এবং সামরিক ঘাঁটি প্রত্যাহার করা ওয়াশিংটনের জন্য কৌশলগত পরাজয় হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি এক বক্তব্যে জানান, যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের সাথে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এবার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনড় অবস্থানের কারণেই ইরান এখন সমঝোতার টেবিলে আসতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে কূটনীতির সমান্তরালে সতর্কবার্তাও বজায় রেখেছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, যেকোনো মূল্যে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা হবে। সামরিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ১৫ দফার মার্কিন প্রস্তাব এবং ইরানের ৫ দফার পাল্টা শর্তের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের ময়দানে পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি এই ‘টেবিল ডিপ্লোম্যাসি’ বা টেবিল কূটনীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ মানচিত্র নির্ধারণ করবে।
Leave a comment