মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাত নিরসনে ইরানকে ১৫ দফার একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি বন্ধুপ্রতিম দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানে পৌঁছানো হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধ বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন এই শান্তি প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন সীমাবদ্ধ করা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংঘাত নিরসনের প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছেন বলে জানা গেছে। ইসলামাবাদ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তেহরান ও ওয়াশিংটন সম্মত হলে তারা সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে প্রস্তুত।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো ও ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর মার্কিন হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত রাখার ঘোষণাও দেন। তবে ইরান সরাসরি এই দাবি অস্বীকার করেছে। তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা তৃতীয় দেশের মাধ্যমে মার্কিন বার্তা পেলেও এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সরাসরি সংলাপে বসেনি।
গত কয়েক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা এবং ইরানের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণে দুই দেশেরই জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ১৫ দফার প্রস্তাবটি যুদ্ধের মাঝে একটি কূটনৈতিক পথ খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্ভর করছে ইরানের চূড়ান্ত সম্মতি এবং এই প্রক্রিয়ায় ইসরায়েলের অবস্থানের ওপর। সামরিক সংঘাতের সমান্তরালে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও সংকট সমাধানের বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
Leave a comment