মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে ইরান। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-র (IRGC) বিমান ইউনিটের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুসাভি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের অধিকৃত অঞ্চলগুলোর আকাশে এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক কৌশলের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘পার্সটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেনারেল মুসাভি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানান যে, গত রাতে অধিকৃত অঞ্চলের দক্ষিণাঞ্চলীয় আকাশসীমা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ইরানি বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিল। এই দাবি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ বা ‘ডেভিডস স্লিং’-এর কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
জেনারেল মুসাভি তার বিবৃতিতে কেবল বর্তমান আধিপত্যের কথা বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং ভবিষ্যৎ হামলার তীব্রতা ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন আক্রমণগুলোতে ইরান এমন সব নতুন সামরিক কৌশল এবং আধুনিক ‘লঞ্চ সিস্টেম’ (ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ পদ্ধতি) ব্যবহার করবে, যা দেখে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক কমান্ডাররা রীতিমতো হতবাক হয়ে যাবেন।
মুসাভি তার বার্তায় রূপক অর্থে বলেন, “নতুন কৌশলগুলোর কার্যকারিতা দেখে মার্কিন-ইহুদিবাদী কমান্ডাররা দাঁত দিয়ে নিজেদের আঙুল কামড়াতে থাকবে।” এই মন্তব্যটি মূলত পশ্চিমাদের গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতাকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে এই ধরনের প্রকাশ্য ঘোষণা একটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে। তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আকাশসীমা দখলের দাবি যদি সত্য হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো একটি বড় ঘটনা। ইরান গত কয়েক বছরে তাদের ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে যে অভাবনীয় উন্নতি করেছে, জেনারেল মুসাভির এই দম্ভোক্তি তারই প্রতিফলন।
ইসরায়েল বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে তেহরানের এই অনড় অবস্থান পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
Leave a comment