মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উত্তর ইসরায়েল। লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে বড় ধরনের ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট হামলা চালিয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ এই আক্রমণের দায় স্বীকার করেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা উত্তর ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘মেরন বিমানঘাঁটি’ লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। আকাশপথে নজরদারি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রামোত নাফতালি অঞ্চলের কাছে অবস্থিত একটি ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ একঝাঁক ‘আক্রমণকারী ড্রোন’ পাঠিয়েছে। ড্রোনের এই বহরটি সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। এছাড়া সীমান্ত সংলগ্ন মানারা ও জার’ইত জনপদগুলোতেও ব্যাপক রকেট হামলা চালানো হয়েছে।
হিজবুল্লাহর এই আকস্মিক ও সুসংগঠিত হামলায় উত্তর ইসরায়েল জুড়ে কয়েক দফায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বা স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর নিশ্চিত করেনি।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহর এই ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইসরায়েলের ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে মেরন বিমানঘাঁটির মতো সুরক্ষিত স্থানে সরাসরি আঘাত হানার দাবি ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীর সামরিক শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ।
এই হামলার পর লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে যুদ্ধাবস্থা আরও ঘনীভূত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের আশঙ্কায় সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক মহল এই ছায়াযুদ্ধ সরাসরি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
Leave a comment