মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় চরম উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ’ (IAI)-এর স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। গত রোববার (২২ মার্চ) ইরানের সেনাবাহিনী এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সফল হামলার দাবি উত্থাপন করে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা এবং কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের ছোড়া ড্রোনগুলো তেল আবিবের বেন গুরিয়ান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটে অবস্থিত আইএআই-এর কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। উল্লেখ্য, আইএআই ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত, যা দেশটির উন্নত ড্রোন এবং মিসাইল সিস্টেম তৈরির প্রধান কেন্দ্র। তবে এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একই দিনে ইরানের সেনাবাহিনী সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে অবস্থানরত একটি মার্কিন নজরদারি বিমানেও হামলা চালানোর দাবি করেছে। যদিও এই হামলার প্রকৃতি বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে ওয়াশিংটন কিংবা রিয়াদ এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেনি।
এদিকে সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে এক কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, যদি ইরানের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হয়, তবে তারা বিশ্ববাণিজ্যের প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে না।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করেছে যে, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো আক্রান্ত হলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি হাব এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। শুধু তাই নয়, যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেই দেশগুলোর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে তেহরান।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য এক ভয়াবহ অশনিসংকেত।
Leave a comment