আজিজুর রহমান, গোয়াইনঘাট | পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের আতিথেয়তায় বরণ করে নিতে প্রস্তুত সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এখন সবুজের সমারোহ। নয়নাভিরাম পাহাড়-টিলা, নদী ও চা-বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদ-পরবর্তী সময়ে প্রকৃতির কন্যা জাফলং, দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন (সোয়াম্প ফরেস্ট) রাতারগুল, ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত অপার সৌন্দর্যের লীলাভূমি বিছনাকান্দি, সবুজে ঘেরা পান্তুমাই এবং জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা দেখতে পর্যটকরা ছুটে আসেন।
প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে গোয়াইনঘাটের পাহাড়, পাথর, ঝর্ণা, স্বচ্ছ পানি আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য অবলোকন করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিয়াসী মানুষ ভিড় করেন। এ বছরও ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় হবে বলে আশা করছেন পর্যটন-সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে দর্শনার্থীদের বরণ করতে আবাসিক হোটেল-মোটেল, রেস্ট হাউস ও রেস্তোরাঁগুলোতে নেওয়া হচ্ছে আগাম প্রস্তুতি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
গোয়াইনঘাটে চারটি প্রধান পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে, প্রতিটিরই রয়েছে স্বতন্ত্র সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের ভিড় হয় জাফলংয়ে। তবে বিছনাকান্দিতে পর্যটকদের উপস্থিতি থাকলেও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা এবং স্বচ্ছ জলরাশির পাথর আগের মতো না থাকায় এর আকর্ষণ কিছুটা কমে গেছে।
জাফলংয়ের মায়াবী ঝর্ণা, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ স্রোতধারা, ঝুলন্ত সেতু, সমতল ভূমির চা-বাগান, তামাবিল জিরো পয়েন্ট এবং খাসিয়া পুঞ্জির নকশিয়া ও সংগ্রাম পুঞ্জি—সব মিলিয়ে সহজেই আকৃষ্ট করে আগত পর্যটকদের। এছাড়া জাফলং পর্যটন এলাকায় বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির কাছে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড নির্মিত দৃষ্টিনন্দন সিঁড়ি এবং পিয়াইন নদীর ওপর জাফলং সেতু পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। সেতুতে দাঁড়িয়ে একসঙ্গে চা-বাগান, নদীর স্বচ্ছ পানি ও ভারতের মেঘালয়ের পাহাড় দেখা যায়।
অন্যদিকে বিছনাকান্দিতে জল আর পাথরের মিতালিতে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে জলকেলি ও আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটান ভ্রমণকারীরা। তবে অসচেতনতার কারণে অনেক সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। এসব বিবেচনায় জাফলং ও বিছনাকান্দিসহ অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বিছনাকান্দি পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. লিলু মিয়া জানান, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত রয়েছে ব্যবসায়ীরা। তবে যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কিছুটা ক্ষতির কারণে এ বছর পর্যটক সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান মেম্বার বলেন, ঈদের ছুটিতে জাফলং পর্যটকে ভরপুর থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা দোকানপাট নতুন পণ্য ও কসমেটিক্স দিয়ে সাজাচ্ছেন।
জাফলং পর্যটন হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিকে সামনে রেখে পর্যটকদের সেবা দিতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও পর্যটকের ঢল নামবে বলে আশা করছেন তিনি।
জাফলং ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ তপন তালুকদার জানান, ঈদ উপলক্ষে আগত পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, ঈদের ছুটিতে জাফলং ও বিছনাকান্দিসহ সব পর্যটন কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বে থাকবেন।
Leave a comment