ঢাকায় চীনা দূতাবাসের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিকে নিজেদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ হিসেবে প্রচার করে সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। পরে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে দলটি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট একাধিকবার সংশোধন করে।
মঙ্গলবার বিকেলে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও চীনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই পোস্টে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন—এমন তথ্যও উল্লেখ করা হয়।
তবে পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে সেটি কয়েক দফা সম্পাদনা করা হয়। পোস্টের এডিট হিস্ট্রি অনুযায়ী, অন্তত চারবার সংশোধনের পর সর্বশেষ সংস্করণে উল্লেখ করা হয় যে, খাদ্যসামগ্রী বিতরণটি ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকেই দেওয়া হয়েছে।
সংশোধিত পোস্টে বলা হয়, ঢাকার একটি নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দাদের জন্য চীনা দূতাবাস এই খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছে এবং ওই অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। একই সঙ্গে চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তারাও এতে অংশ নেন।
এদিকে বাংলাদেশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আলাদা পোস্টে জানায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার বাসিন্দাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে তারা। সেখানে এটিকে সম্পূর্ণভাবে দূতাবাসের উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান চীনের এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং বলেন, এটি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে এমন বিভ্রান্তি রাজনৈতিক দলগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ধরনের ঘটনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়ে।
Leave a comment