সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলা-র বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে ভিজিএফ কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মার্চ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য ১ হাজার ১৭০ জন কার্ডধারীর জন্য জনপ্রতি ১০ কেজি করে মোট ১১.৭০০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের একটি বড় অংশ এই চাল পাননি।
ভুক্তভোগীরা জানান, তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বিতরণের সময় তাদের ডাকা হয়নি। কাউহানি গ্রামের শামরাজ, মনি, নিশ্চিন্তপুরের হাজেরা, রংচীর মাফিক এবং নোয়াগাঁওয়ের বকুলসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, রোজা রেখে দুপুরে এসে দেখেন চাল বিতরণ শেষ হয়ে গেছে। তাদের প্রশ্ন—তাদের বরাদ্দকৃত চাল কোথায় গেল।
স্থানীয় তৃণমূল বিএনপির কয়েকজন কর্মী অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহেবুর, সাধারণ সম্পাদক এনামুল গণি রুবেল এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের যোগসাজশে প্রায় ১২০ জন কার্ডধারীকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অসহায় মানুষের প্রাপ্য চাল নিজেদের লোকজনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রায় ৩৫০টি কার্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসব চাল আত্মসাৎ করেছেন, যার ফলে প্রকৃত সুবিধাভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন। এতে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য নুরুজ্জামান বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির নেতাদের এভাবে কার্ড নেওয়া ঠিক হয়নি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকেও এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রশ্নবিদ্ধ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহেবুর। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ৩৫০টি কার্ড নিয়েছেন ঠিকই, তবে সেগুলো কাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, তা তারা নিজেরাই বলতে পারবেন।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
Leave a comment