ফুলপুর উপজেলা-এর একটি সেতুর ওপর হাঁস বিক্রি করতে বসা এক হতদরিদ্র বিক্রেতার কাছ থেকে পুলিশের হাঁস ছিনিয়ে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ-শেরপুর মহাসড়ক-এর খড়িয়া নদী-র ওপর অবস্থিত আমুয়াকান্দা সেতু-তে এ ঘটনা ঘটে। হাটের দিন বাজারে জায়গা না হওয়ায় এক দরিদ্র কৃষক সেতুর ওপর একটি সিলভারের পাত্রে কয়েকটি হাঁস নিয়ে বিক্রির জন্য বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ থানার একটি পিকআপ সেতুর ওপর এসে থামে এবং সেখান থেকে নেমে এক পুলিশ সদস্য বিক্রেতার ওপর চড়াও হন।
ভিডিওতে দেখা যায়, পিকআপ থেকে নেমে ওই পুলিশ সদস্য কোনো কথা না বলেই সেতুর পাশে বসে থাকা হাঁস বিক্রেতার কাছে গিয়ে তাকে ধাক্কা দেন। পরে সিলভারের পাত্রে থাকা হাঁস নিয়ে যেতে চাইলে বিক্রেতা বাধা দেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে পুলিশ সদস্য দুটি হাঁস টেনে নিয়ে সামনে থাকা পিকআপের পেছনে ছুড়ে দেন এবং গাড়িতে উঠে পড়েন। এ সময় উপস্থিত লোকজন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন এবং হতদরিদ্র বিক্রেতাকে হাঁস ফেরত পাওয়ার আশায় গাড়ির পেছনে দৌড়াতে দেখা যায়।
পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিডিওতে দেখা ওই পুলিশ সদস্য হলেন মো. মুকুল সরকার, যিনি ফুলপুর থানা-র উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত। সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভিডিওতে থাকা ঘটনাটি নিজের বলে স্বীকার করেন। তিনি জানান, ওইদিন তিনি একটি দল নিয়ে মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বিশেষ করে আমুয়াকান্দা সেতুতে প্রায়ই যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই সেখানে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে বসে বিক্রি করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, বারবার নিষেধ করার পরও অনেকে সেতুর ওপর বসে পণ্য বিক্রি করছিলেন। এ কারণে তিনি কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই বিক্রেতার হাঁস দুটি নিয়ে যান, মূলত ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে। পরে সেগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ হাসান, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), ফুলপুর থানা বলেন, সেতুর হাঁটার জায়গায় কয়েকদিন ধরে ভ্রাম্যমাণ বাজার বসে যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল। তাই সেতুর ওপর বাজার বসতে না দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া ছিল। ওইদিন এসআই মুকুল সরকার ভয় দেখাতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং পরে হাঁসগুলো ফেরত দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।
Leave a comment