ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন চারটি অভিযোগের ভিত্তিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে মামলা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
অধ্যাপক কার্জনের বক্তব্যে সংবিধান লঙ্ঘন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা, আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুর–সংক্রান্ত বিষয়গুলোকে মামলার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
অধ্যাপক কার্জন বলেন, তাঁর মতে ড. ইউনূস ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে “সংবিধান লঙ্ঘন” এবং “রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করা”—এই দুই অভিযোগে মামলা করা যেতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত কিছু চুক্তি আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে।
তবে তিনি নির্দিষ্ট করে কোন চুক্তির কথা বলেছেন বা কী ধরনের সাংবিধানিক লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছেন—সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। এ বিষয়ে ড. ইউনূস বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অধ্যাপক কার্জন আরেকটি মামলার ভিত্তি হিসেবে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙচুরের প্রসঙ্গ তোলেন। উল্লেখ্য, ওই বাড়িটি শেখ মুজিবুর রহমান–এর বাসভবন হিসেবে পরিচিত ।
কার্জনের বক্তব্য অনুযায়ী, সেখানে সংরক্ষিত দুষ্প্রাপ্য নথি ও প্রমাণাদি নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশি-বিদেশি কারও ইন্ধন ছিল কিনা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কারও ভূমিকা ছিল কিনা—তা তদন্তের দাবি রাখে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সে সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করেনি।
গত দেড় বছরে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন অধ্যাপক কার্জন। তাঁর ভাষ্য, এটি একটি “অস্বাভাবিক” সংখ্যা। তিনি বিবিসির একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে দাবি করেন, অধিকাংশ অধ্যাদেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সরকারের পক্ষ থেকে অধ্যাদেশ জারির প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা জনসমক্ষে রয়েছে কিনা—সে বিষয়টি তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেননি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অধ্যাদেশ জারি সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়ার অংশ হলেও এর প্রয়োগ ও যৌক্তিকতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে একটি আলোচিত নাম। তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন সময়ে আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
Leave a comment