শেরপুরে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর সফরে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সফরে তিনি শেরপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একাধিক নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ডা. শফিকুর রহমান রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায় গিয়ে নিহত নেতা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন তিনি। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় শেরপুর জেলা শহরে আয়োজিত একটি নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে জামায়াত আমিরের।
সফরসূচি অনুযায়ী, শেরপুরের কর্মসূচি শেষে তিনি দুপুর সাড়ে ১২টায় জামালপুরে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন। দিনশেষে ঢাকায় ফিরে নিজের নির্বাচনি এলাকা ঢাকা–১৫ আসনে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জনসংযোগ ও পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এতে আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪০)। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর প্রশাসনিক পর্যায়েও পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার বিষয়ে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নিহত রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী মোছা. মার্জিয়া (৩৪) বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলায় ২৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৭৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এ মামলায় বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বহু নেতাকর্মীর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে স্থানীয় পর্যায়ের সংঘর্ষ ও উত্তেজনা জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পরিস্থিতি শান্ত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডা. শফিকুর রহমানের শেরপুর সফরকে ঘিরে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। দলীয় কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
Leave a comment