Home জাতীয় অপরাধ স্কুলব্যাগে পাথর ভরে ডোবায় ফেলা হয় ছাত্রের লাশ, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
অপরাধআইন-বিচারআঞ্চলিকজাতীয়

স্কুলব্যাগে পাথর ভরে ডোবায় ফেলা হয় ছাত্রের লাশ, ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

Share
Share

ফেনীতে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর হত্যা করে স্কুলব্যাগে পাথর ভরে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফেনী জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ এন এম মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—আশ্রাফ হোসেন তুষার, মোবারক হোসেন ওয়াসিম এবং ওমর ফারুক রিপাত।

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, নিহত আহনাফ আল মাঈন নাশিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন সোহাগের ছোট ছেলে। পরিবারের সঙ্গে তিনি ফেনী পৌরসভার একাডেমি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। নাশিত স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর কোচিং ক্লাস শেষ করে শহরের আতিকুল আলম সড়ক হয়ে বায়তুল খায়ের জামে মসজিদে নামাজ পড়তে যায় নাশিত। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিচিত আশ্রাফ হোসেন তুষার ও তার সহযোগীরা তাকে অপহরণ করে দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে জুসের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে তাকে অচেতন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে শিশুটির ছবি তুলে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠিয়ে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মামলার বিবরণে বলা হয়, মুক্তিপণ আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অভিযুক্তরা শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ রেললাইনের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। যাতে মরদেহ ভেসে না ওঠে, সেজন্য স্কুলব্যাগে পাথর ভরে দেহের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল।

নাশিতের বাবা মাঈন উদ্দিন সোহাগ ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ফেনী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী দুদিন একটি মোবাইল নম্বর থেকে তাকে কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সন্দেহভাজন হিসেবে তুষারের নাম জানালে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। তার দেওয়া তথ্যমতে দেওয়ানগঞ্জ এলাকার একটি ডোবা থেকে স্কুলব্যাগসহ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে প্রধান অভিযুক্ত তুষারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অপহরণ ও হত্যা। শিশুটির বয়স, ঘটনার নৃশংসতা এবং মুক্তিপণের উদ্দেশ্য বিবেচনায় আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। অন্যদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

সিলেট বিভাগের তিন জেলা পরিষদে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ

সিলেট বিভাগের তিনটি জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে বিএনপির তিন নেতাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী...

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে অনুদান : সংস্কৃতি খাতে অনিয়মের অভিযোগ

বাংলাদেশের সংস্কৃতি খাতে সরকারি অনুদান বিতরণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে একটি অনুসন্ধান। অভিযোগ উঠেছে, সদ্য বিদায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার...

Related Articles

অচল ২০ যানবাহন মেরামত করে সচল করছে সিসিক

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) গ্যারেজে দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থাকা ২০টি...

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে স্নাতক পাস হতে হবে

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেতে হলে...

ইউনূসের শাসন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করলেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর

সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেছেন, একদিন যদি ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপলব্ধি করেন, তখন...

বিএনপিকে না মানলে ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড না পাওয়ার হুমকি : শানু

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ আলম (শানু) বলেছেন, যারা বিএনপিকে মানবে...