আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের লড়াই নয়, বরং এটি একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা হিসেবে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত তিন নেতার মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর দোয়া ও মোনাজাত শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তার রাজনৈতিক অবস্থান ও নির্বাচনী লক্ষ্য তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করার কারণ ব্যাখ্যা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এই জনপদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই এই ক্যাম্পাস ছিল পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দু।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলার পূর্বপুরুষ ও আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে এখান থেকেই আমাদের নির্বাচনী যাত্রা শুরু করেছি। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতীক।”
নাহিদ ইসলাম এবারের নির্বাচনী যাত্রাকে আধিপত্যবাদবিরোধী ‘আজাদীর যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষায়, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, “এই আজাদীর যাত্রার প্রধান এজেন্ডা হলো ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।” নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ায় দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এ প্রসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচনের আগেই হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হলে তা ন্যায়বিচার অস্বীকারের শামিল।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম সরকার ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কঠোর সমালোচনা করেন। তার দাবি, নির্বাচনকে ঘিরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
তিনি বলেন, “সরকার এবং নির্বাচন কমিশন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে বিশেষ অবস্থান নিয়েছে, যা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।”
তার মতে, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে দলনিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।
১০ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই জোটের প্রতি ক্রমবর্ধমান সমর্থন জানাচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই হবে তাদের জয়ের প্রধান শক্তি।
তিনি বলেন,“আমরা বিশ্বাস করি, কোনো কৃত্রিম ব্যবস্থা বা প্রশাসনিক সহায়তা ছাড়া জনগণের ভোটেই ১০ দলীয় জোট বিজয়ী হবে এবং দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই জোট ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নাগরিক অধিকারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
নাহিদ ইসলাম জানান, আগামী দিনগুলোতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ধারাবাহিক জনসংযোগ, পথসভা ও সমাবেশের মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে তাদের বার্তা পৌঁছে দেবেন। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও অনিয়ম এড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
সব মিলিয়ে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া নাহিদ ইসলামের এই নির্বাচনী যাত্রা ১০ দলীয় জোটের রাজনৈতিক কৌশল ও প্রত্যাশার একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—তারা আসন্ন নির্বাচনকে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ নয়, বরং একটি কাঠামোগত ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সুযোগ হিসেবে দেখতে চায়।
Leave a comment