ইন্দোনেশিয়ায় ১১ জন আরোহী নিয়ে একটি ছোট যাত্রীবাহী বিমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে হঠাৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিমানটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক শহর ইয়োগ্যাকার্তা থেকে সুলাওয়েসি দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মাকাসারের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট পরিচালিত একটি টার্বোপ্রপ বিমান। নির্ধারিত রুটে যাত্রাকালে দুপুর ১টার কিছু পর হঠাৎ করেই বিমানটির সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার (SAR) তথ্যমতে, নিখোঁজ বিমানে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজন যাত্রী এবং আটজন ক্রু সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রাথমিকভাবে কোনো জরুরি সংকেত বা বিপদসংকেত (ডিস্ট্রেস সিগন্যাল) পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাকাসার অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, বিমানের সর্বশেষ রাডার সংকেত পাওয়া গেছে মাকাসারের পার্শ্ববর্তী মারোস রিজেন্সির একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। ওই অঞ্চল ঘন জঙ্গল ও উঁচু-নিচু ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা কঠিন বলে জানান তিনি।
আরিফ আনোয়ার বলেন ,“আমরা সম্ভাব্য সব পথ ও এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছি। স্থল ও আকাশ—দুই পথেই উদ্ধার অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
নিখোঁজ বিমানটির সন্ধানে দেশটির বিমান বাহিনী, জাতীয় পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলো একযোগে কাজ করছে। মাকাসার সংস্থার অপারেশনস প্রধান আন্দি সুলতান জানান, অনুসন্ধান জোরদার করতে একটি হেলিকপ্টার ও একাধিক ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনো অস্বাভাবিক শব্দ, ধোঁয়া বা ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ১৭ হাজারেরও বেশি দ্বীপ রয়েছে। এই বিস্তৃত ভূগোলের কারণে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যাতায়াতের জন্য বিমান পরিবহন দেশটির অন্যতম প্রধান ভরসা। বিশেষ করে দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে সড়ক বা নৌপথ সীমিত হওয়ায় ছোট যাত্রীবাহী ও কার্গো বিমান নিয়মিত চলাচল করে।
তবে এই বাস্তবতার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। পুরোনো বিমান, চ্যালেঞ্জিং আবহাওয়া এবং দুর্গম রানওয়ের কারণে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়ায় একাধিক প্রাণঘাতী বিমান ও হেলিকপ্টার দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কালিমানতান প্রদেশ থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই ছয়জন যাত্রী ও দুইজন ক্রু সদস্য নিয়ে একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সবাই প্রাণ হারান।
এরও দুই সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে পাপুয়ার দুর্গম ইলাগা জেলায় আরেকটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হন। এসব ঘটনার পর দেশটির বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদারের দাবি ওঠে।
Leave a comment