বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে আলোচিত প্রেম ও বিয়ের গল্পগুলোর একটি ছিল জনপ্রিয় গায়ক-অভিনয়শিল্পী তাহসান রহমান খান এবং যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রূপসজ্জাশিল্পী রোজা আহমেদের সম্পর্ক। তুমুল ভালোবাসা, হঠাৎ বিয়ে এবং তার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা—সব মিলিয়ে এই দম্পতি খুব অল্প সময়েই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। কিন্তু সেই সম্পর্ক বছর না ঘুরতেই ভেঙে যাওয়ায় ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর তথ্যে উঠে এসেছে, প্রেমের সময়ের তুলনায় দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে থাকার সুযোগ ও সময় ছিল তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। বাস্তবতা ও প্রত্যাশার এই ব্যবধানই ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরেই অস্ট্রেলিয়ায় সংগীত সফরে যাওয়ার আগেই তাহসান ও রোজা আলাদা থাকতে শুরু করেন। সে সময় মেলবোর্ন থেকে তাহসান গণমাধ্যমকে গান ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন —যা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হয়েছিল।
পরবর্তীতে তাহসান নিজেই জানান, ওই সময়েরও আগে থেকেই তারা কার্যত আলাদা ছিলেন। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে এরপর তিনি আর প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি, বরাবরের মতোই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নীরবতা বজায় রেখেছেন।
অন্যদিকে, রোজা মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাহসানের সঙ্গে তোলা ছবি ও আবেগঘন পোস্ট শেয়ার করছিলেন। এতে অনেকেই ভেবেছিলেন, সম্পর্কটি হয়তো এখনও টিকে আছে। কিন্তু ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদের ঘনিষ্ঠ মহলের কয়েকজন জানিয়েছেন, বিয়ের পর দুজনের জীবনদর্শন ও প্রত্যাশার পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাহসান চেয়েছিলেন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যক্তিগত, শান্ত ও নিরিবিলি জীবনযাপন করতে। তিনি বিনোদন অঙ্গন থেকে খানিকটা দূরে সরে গিয়ে সংসারকেই অগ্রাধিকার দিতে আগ্রহী ছিলেন। সে কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষ্ক্রিয় থাকা এবং পেশাগত কাজ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
রোজার অবস্থান ছিল কিছুটা ভিন্ন। বিয়ের পর তাঁর পরিচিতি ও সামাজিক পরিসর আরও বিস্তৃত হয়। নতুন এই পরিচিতি ও আলোচনার কেন্দ্রে থাকা বিষয়টি তিনি উপভোগ করছিলেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এই দুই ভিন্ন মানসিকতা ও জীবনযাপনের ধরনই ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি করে।
ঘনিষ্ঠ মহলের তথ্য অনুযায়ী, শুরুতে তারা এই দূরত্ব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মতের অমিল আরও প্রকট হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কাউকে দোষারোপ না করে, পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
জানা গেছে, গত বছরের শেষ দিকেই বিচ্ছেদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বিষয়টি কোনো নাটকীয় সংঘাত বা প্রকাশ্য অভিযোগের মধ্য দিয়ে হয়নি; বরং শান্ত ও ব্যক্তিগতভাবে এই অধ্যায়ের ইতি টানা হয়েছে।
এটি তাহসানের দ্বিতীয় বিয়ে। তাঁর আগের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে, যার সঙ্গে তিনি নিয়মিত সময় কাটান। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তিনি বরাবরই সংযত এবং গণমাধ্যমের আলো থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি নীরবতার পথই বেছে নিয়েছেন।
ঘনিষ্ঠজনদের মতে, বিচ্ছেদ হলেও বিষয়টি দুজনই পরিপক্বতা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে সামলেছেন। সম্পর্ক জোড়া লাগার সম্ভাবনা নেই বলেই তারা জানিয়েছেন। তবে এটিকে কোনো অভিযোগ, দ্বন্দ্ব বা বিতর্কের ফল নয়; বরং জীবন ও সম্পর্কের বাস্তবতায় দুজনের ভিন্ন পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এই বিচ্ছেদ তাই শোবিজের আর দশটি নাটকীয় ভাঙনের মতো নয়—বরং দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শান্তভাবে নিজেদের জীবনের সঠিক পথ বেছে নেওয়ার একটি বাস্তব গল্প।
Leave a comment