গতকাল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাযায় অংশগ্রহণ করতে ও জিয়া পরিবারকে শোকের বার্তা দিতে ঢাকায় উপস্থিত হন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার আইয়াজ সাদিক ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এ সময় তারা সৌজন্য সাক্ষাতে হ্যান্ডশেক করেন।
হ্যান্ডশেককে অনেকেই সৌজন্য বিনিময়ের সাধারণ ভঙ্গি হিসেবে দেখেন। কিন্তু জীবনধারা–বিশ্লেষকদের মতে, কারও সঙ্গে করমর্দনের ধরন থেকেই বোঝা যেতে পারে তার ব্যক্তিত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং আচরণগত প্রবণতা। একজন মানুষ কতটা আত্মবিশ্বাসী, কতটা নিয়ন্ত্রণপ্রবণ কিংবা কতটা বিনয়ী—এসব ইঙ্গিত অনেক সময় প্রথম হ্যান্ডশেকেই ধরা পড়ে।
জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ব্রাইট সাইট জানায়, হ্যান্ডশেকের ভিন্ন ভিন্ন ধরন ভিন্ন মানসিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায়। যেমন, কেউ যদি দুই হাত দিয়ে অপরজনের হাত চেপে ধরে করমর্দন করেন, তাকে বলা হয় ডাবল হ্যান্ডার হ্যান্ডশেক। এ ধরনের মানুষ সাধারণত সৎ, আন্তরিক এবং যোগাযোগে খোলামেলা বলে মনে করা হয়।
অন্যদিকে, ডমিনেন্ট হ্যান্ডশেকে একজনের হাত থাকে ওপরে, আর অপরজনের হাত নিচে। যাঁর হাত ওপরে থাকে, তিনি সাধারণত প্রভাব বিস্তার করতে চান এবং নিজের কর্তৃত্ব জাহির করেন। এ ধরনের হ্যান্ডশেক আক্রমণাত্মক মানসিকতার ইঙ্গিত দেয় এবং নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতাও প্রকাশ করে।
সাবমিসিভ হ্যান্ডশেকে দুজনের হাতের তালু থাকে সমান্তরাল ও সামনাসামনি। ব্রাইট সাইটের মতে, এ ধরনের মানুষ তুলনামূলক কম আত্মবিশ্বাসী হন এবং সহজেই অন্যের প্রভাবে আসেন।
ডেড ফিশ নামে পরিচিত হ্যান্ডশেকে হাত ঢিলেঢালা ও প্রাণহীন থাকে। এই ভঙ্গি ব্যক্তির দুর্বলতা, অনাগ্রহ বা দৃঢ়তার অভাবকে বোঝায়। এ ধরনের মানুষ দ্রুতই নরম হয়ে পড়েন বলে মনে করা হয়।
আর যদি হ্যান্ডশেকের সময় হাত শক্তভাবে গাজরের থোকার মতো ধরা হয়, তাকে বলা হয় বাঞ্চ অব ক্যারটস। এ ধরনের মানুষ সাধারণত সতর্ক, দায়িত্বশীল এবং অসাবধানতা পছন্দ করেন না। নিজের পাশাপাশি অন্যের অসতর্ক আচরণও তাদের অপছন্দের তালিকায় থাকে।
সূত্র: ব্রাইট সাইট (Bright Side)
Leave a comment