ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ ঘরের ভেতর রেখে দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে আখাউড়া পৌরসভার শান্তিনগর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম সুমি আক্তার (৩৪)। তিনি শান্তিনগর গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় স্বামী মো. খোরশেদ আলমের সঙ্গে বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমি আক্তার শান্তিনগর গ্রামের সোহাগ মিয়ার চারতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে স্বামীর সঙ্গে ভাড়া থাকতেন। ঘটনার দিন দুপুরের কোনো এক সময় পারিবারিক কলহের জেরে সুমিকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যার পর অভিযুক্ত স্বামী মো. খোরশেদ আলম বাসার দরজা বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
নিহতের পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সুমি ও তার স্বামীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলেও সুমির সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে উদ্বিগ্ন হয়ে তার মা ও ভাই বাসায় আসেন। এ সময় তারা ঘরের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পান। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তাদের সন্দেহ আরও বাড়ে।
একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন সুমির মা ও ভাই। ঘরের ভেতরে ঢুকে তারা সুমিকে মেঝেতে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই তারা পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল আলম বলেন, “প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পারিবারিক কলহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে হত্যা মামলা রুজু করা হবে এবং আইনানুগ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Leave a comment