মানিকগঞ্জের ঘিওরে ডাকাতদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫ বছর বয়সী রাশিদা বেগম নামে এক গৃহবধূ। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের পশ্চিম বাইলজুড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা তার ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে এবং তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, রাশিদা বেগমের স্বামী নকুমুদ্দিনের সঙ্গে প্রায় তিন দশক আগে বিচ্ছেদ হয়। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে জর্ডানে প্রবাস জীবন কাটান। প্রায় দশ বছর আগে দেশে ফিরে তিনি পশ্চিম বাইলজুড়ীতে নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমুরিয়ায় হলেও একমাত্র মেয়ে তাসলিমা বর্তমানে জর্ডানে আছেন। দেশে ফেরার পর থেকে রাশিদা একাই ওই বাড়িতে থাকতেন।
পয়লা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল লতিফ জানান, সোমবার গভীর রাতে একদল ডাকাত প্রথমে গ্রামের আরেক বাসিন্দা আমির মাস্টারের বাড়িতে হানা দেয়। পরে তারা রাশিদা বেগমের ঘরে প্রবেশ করে লুটপাট চালায়। এসময় ডাকাতেরা তাকে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাকালে তার ভাইয়ের মেয়ে ও নাতি যারা বেড়াতে এসে পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। তারা অক্ষত অবস্থায় আছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ছোটখাটো চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যকর ছিল না। এর ফলে বড় ধরনের এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলো। এ ঘটনার পর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘিওর থানার ওসি (তদন্ত) কোহিনূর ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে তদন্ত শুরু করেছি। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
ঘটনার পর থেকে পশ্চিম বাইলজুড়ী এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র মেয়ের কাছে রাশিদা বেগমের মৃত্যুর সংবাদ পাঠানো হয়েছে। তার আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ভিড় করে শোক প্রকাশ করছেন।
Leave a comment