Home আঞ্চলিক দাফনের ১৫ দিন পর জীবিত ফিরে এলো কিশোর রবিউল
আঞ্চলিকজাতীয়

দাফনের ১৫ দিন পর জীবিত ফিরে এলো কিশোর রবিউল

Share
Share

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় এক বিস্ময়কর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন রবিউল ইসলাম (১৬) নামের এক কিশোর। পরিবার ও স্বজনরা তাকে মৃত ভেবে দাফন করেছিলেন ১৫ দিন আগে। শুধু তাই নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ এনে মামলা পর্যন্ত করেছিলেন তার মা। অথচ গত শুক্রবার (২২ আগস্ট) জীবিত অবস্থায় পরিবারের কাছে ফিরে আসে সেই কিশোর রবিউল এই ঘটনা গ্রামে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

রবিউল ইসলাম ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারের গদিয়াচর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে। স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় কাজ করতেন তিনি। গত ২৬ জুলাই কাজের জায়গা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরই পরিবার তাকে খুঁজে ফিরছিল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে রবিউলের স্বজনরা সেখানে গিয়ে মরদেহটি রবিউলের বলে শনাক্ত করেন।

৬ আগস্ট মরদেহটি নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। এরপর ৮ আগস্ট রবিউলের মা পারুল বেগম কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্থানীয় বগুড়া রেস্তোরাঁর মালিক বুলবুল মিয়াসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়। রবিউলকে হত্যার প্রতিবাদে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধও করেছিলেন স্থানীয়রা।

তদন্ত চলাকালে পরিবারের সদস্যরা হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে রবিউলের সন্ধান পান। এরপর তাকে থানায় নিয়ে আসেন। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে কুলাউড়া থানায় হাজির করা হয় রবিউলকে।
শনিবার (২৩ আগস্ট) মৌলভীবাজার আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দেয় রবিউল। সেখানে সে জানায়, নিখোঁজ হয়নি; বরং ইচ্ছাকৃতভাবে আগের রেস্তোরাঁর কাজ ছেড়ে নতুন জায়গায় কাজে যোগ দিয়েছিল। পরে নবীগঞ্জে গিয়ে অবস্থান করলে তার খোঁজ পান পরিবারের সদস্যরা।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, রবিউল আত্মগোপনে ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজে পাওয়ার পর থানায় খবর দেন। পরে আদালতের নির্দেশে রবিউলকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওসি আরও বলেন, “যে মরদেহকে রবিউল ভেবে দাফন করা হয়েছিল, সেটি এখনও অজ্ঞাত রয়ে গেছে। মরদেহের সুরতহাল ও অপমৃত্যুর মামলা থানায় বিদ্যমান। নিহত ব্যক্তির পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ভুল শনাক্তের জন্য স্বজনদের অবহেলাকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, পুলিশের আরও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল।
স্থানীয় শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, “মরদেহ শনাক্তকরণে এ ধরনের ভুল হওয়া খুবই দুঃখজনক। একই সঙ্গে অজ্ঞাত মরদেহটি কার—এটা বের করাও জরুরি।”

এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, যথাযথ মেডিকেল পরীক্ষা বা ডিএনএ যাচাই ছাড়াই কেন মরদেহ হস্তান্তর করা হলো। আইনজীবীরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়াতে ডিএনএ পরীক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা উচিত। অন্যদিকে সামাজিক দিক থেকে ঘটনাটি একটি পরিবারের জন্য যেমন স্বস্তি বয়ে এনেছে, তেমনি অন্য একটি অজ্ঞাত পরিবারের জন্য তৈরি করেছে অনিশ্চয়তা।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

মা বাইরে কাজে ব্যস্ত,আগুনে পুড়ে প্রাণ গেল দেড় বছরের শিশুর

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় ঘরের ভেতরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে দেড় বছরের এক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম ছোঁয়া খাতুন।...

মাত্র ৫ মাসে কোরআন হেফজ করেছে ৯ বছরের নুসরাত

মাত্র ৫ মাস ১১ দিনে পবিত্র কোরআন শরীফের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজা হওয়ার বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছে ৯ বছর বয়সী নুসরাত জাহান...

Related Articles

সাড়ে ছয় মাসে পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলো দুই বোন

নরসিংদীতে হুমায়রা ইসলাম তানহা (৮ বছর ৯ মাস) ও তানজিন ইসলাম জিদনী...

বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে ১০ দলীয় জোট: নাহিদ ইসলাম

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে ১০ দলীয় জোট সরকার...

‘জেতানোর মালিক একমাত্র আল্লাহ’: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জয় বা পরাজয়ের মালিক কোনো ব্যক্তি কিংবা...

স্কুলে শিশুশিক্ষার্থীকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুশিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন...