মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার কারণে কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া ‘লিব্রেথা’ নামের ৬২ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ট্যাংকার পারস্য উপসাগরে আটকে আছে।
ইরানের ঘোষণা অনুসারে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় জাহাজটি এখনো পারস্য উপসাগরে নোঙর অবস্থায় রয়েছে। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, তিন দিন ধরে এটি একই স্থানে অবস্থান করছে। ২৯৫ মিটার দীর্ঘ এই লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকারে এলএনজি বোঝাই আছে এবং ড্রাফট বা পানির নিচে নিমজ্জিত অংশের গভীরতা ১১.৩০ মিটার।
ট্যাংকারটির স্থানীয় প্রতিনিধি ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেড জানিয়েছে, ‘লিব্রেথা’ ও ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামে আরও একটি এলএনজি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালির ভেতরে আটকা থাকায় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই দুটি ট্যাংকারের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও চারটি এলএনজিবাহী জাহাজ ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে শুরু করেছে। ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আজ সোমবার ‘লুসাইল’ ও বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামে আরও দুটি জাহাজ বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে এই চার জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।
বাংলাদেশে এলএনজি আমদানিতে কাতারের উপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩ লাখ ৩৭ হাজার টন এলএনজি আমদানি হয়েছে, যার ৬৫% কাতার থেকে এসেছে।
সরবরাহ–সংকটের কারণে পেট্রোবাংলা গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট কমিয়েছে। দুটি ট্যাংকারের অনিশ্চয়তার কারণে খোলাবাজার থেকে অতিরিক্ত দামে এলএনজি ক্রয় করা হয়েছে
এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া প্রতি ইউনিট এলএনজি সাড়ে ২৪ ডলার দরে সরবরাহ করবে, যার কার্গো ২০ মার্চ দেশে পৌঁছানোর কথা। আর গানভর কোম্পানি প্রতি ইউনিট ২৮ ডলার দরে একটি কার্গো সরবরাহ করবে, যা ১৭ মার্চ আসার কথা রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে একই এলএনজি প্রতি ইউনিট প্রায় ১০ ডলারে কেনা হচ্ছিল।
পেট্রোবাংলা আশা করছে, খোলাবাজার থেকে এলএনজি ক্রয় করে চলতি মাসে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
Leave a comment