বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন ও স্বাভাবিক করতে ওমান সরকারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনায় করেছে ইরান। রোববার (৫ এপ্রিল) দুই দেশের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে এই নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশ কিছু নতুন প্রস্তাব ও ধারণা উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি স্থায়ী প্রটোকল প্রণয়নের কাজ করছে তেহরান। ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি এ প্রসঙ্গে বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলকে একটি সমন্বিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হবে। এর অর্থ কোনো বিধিনিষেধ আরোপ নয়; বরং চলাচল প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নিরাপদ এবং উন্নত সেবা নিশ্চিত করা।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। দীর্ঘ সময় এটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে।
ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দুই পক্ষই হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও স্বাভাবিক নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন এই প্রটোকল বাস্তবায়িত হলে দুই দেশ যৌথভাবে এই জলপথের তত্ত্বাবধান করবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মাঝে ওমান ও ইরানের এই যৌথ উদ্যোগ পশ্চিমা বিশ্ব কীভাবে গ্রহণ করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণকে নতুন দিকে মোড় দিতে পারে।
Leave a comment