রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বাসায় ফিরেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা–নিরীক্ষা শেষে রাত পৌনে ১২টার দিকে তিনি পুনরায় গুলশানের বাসভবনে ফেরেন।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে দলের আরও কয়েকজন সিনিয়র নেতা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান করেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবীর খান সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন যে চিকিৎসা শেষে তিনি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বাসায় ফিরেছেন।
প্রায় ৮০ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল রোগে ভুগছেন। তাঁর লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা রয়েছে। এসব কারণে নিয়মিত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয় তাঁকে।
গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গিয়েছিলেন। সেখানে টানা ১৭ দিন লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি থাকার পর তিনি তাঁর ছেলে তারেক রহমানের বাসায় অবস্থান করেন। সেই সময় অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন তিনি। উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে তিনি দেশে ফেরেন।
দেশে ফেরার পর থেকে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবনেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত একটি মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তত্ত্বাবধান করছে। নিয়মিতভাবে ওই চিকিৎসক দল তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে, তবে দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে তাঁকে সবসময় বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। বিএনপির নেতারা তাঁর সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
Leave a comment