ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেছেন রুমিন ফারহানা, যা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে ‘হাঁস’ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ‘খেজুরগাছ’ প্রতীকে পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট।
দ্বিতীয়বারের মতো সংসদে যোগ দিলেও নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এবারই প্রথম জাতীয় সংসদে প্রবেশ করছেন রুমিন ফারহানা। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সংসদে তার সক্রিয় উপস্থিতি ও তর্ক-বিতর্কে অংশগ্রহণ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দেয়।
সাম্প্রতিক এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক যাত্রা, দলীয় সম্পর্ক এবং নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন তিনি। সেখানে তিনি জানান, এই জয়কে তিনি সৃষ্টিকর্তার কাছে চাওয়া প্রাপ্তি হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে তিনি দোয়া ও প্রার্থনায় ছিলেন এবং নিজের সম্মান রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছেন।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পাওয়া ও বহিষ্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর সুনির্দিষ্ট কারণ তার জানা নেই। তবে তিনি মনে করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর দলের হয়ে সক্রিয় থাকার পরও এই সিদ্ধান্ত হয়তো আবেগপ্রসূত ছিল, যা অনেকের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। তিনি এও উল্লেখ করেন, দলের সিদ্ধান্তের ফলে তিনি সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি যেতে পেরেছেন এবং সারা দেশের মানুষের দোয়া ও সমর্থন পেয়েছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে বলেও জানান রুমিন। তার মতে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশতে পারার ক্ষমতাই তাকে এই বিজয় এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিশেষ করে নারীরা তার জন্য দোয়া করেছেন এবং সেই সমর্থনই তাকে শক্তি জুগিয়েছে।
নতুন সংসদের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, অভিজ্ঞতা খারাপ না হলেও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার মতে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অনুপস্থিতিতে সংসদে দেশের একটি বড় অংশের প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত রয়েছে। এছাড়া নতুন সদস্যদের কারণে কিছু প্রাথমিক ভুলত্রুটি দেখা গেছে, যা সময়ের সঙ্গে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
Leave a comment