কক্সবাজারের পেকুয়ায় ডেনিস বোটে উঠতে গিয়ে পা পিছলে সাগরে পড়ে শামীম (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার মগনামা লঞ্চঘাটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর রোববার সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শামীম ভোলা জেলার মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের একটি শিপিং কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরুং মংলারপাড়ার করিমা বেগমকে বিয়ে করেন। অসুস্থ স্ত্রীকে তাঁর বাবার বাড়ি কুতুবদিয়ায় পৌঁছে দিতে যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
শামীমের স্ত্রী করিমা বেগম জানান, শনিবার মগনামা জেটিঘাটে কুতুবদিয়াগামী বোটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তাঁরা। বিকেল ৩টার দিকে বোট ঘাটে পৌঁছালে দুজন সিঁড়ি দিয়ে বোটে ওঠার জন্য এগিয়ে যান। এ সময় পা পিছলে পানিতে পড়ে যান শামীম। তিনি ভালো সাঁতার জানলেও পানিতে পড়ার পর দ্রুত তলিয়ে যান।
ঘাটের ইজারাদার নুরুল ইসলাম বলেন, অসাবধানতাবশত শামীম পানিতে পড়ে যান। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
পেকুয়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শফিউল আলম জানান, শনিবার বিকেল ৩টা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে রোববার সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে পাঁচ সদস্যের একটি ডুবুরি দল এসে অভিযান শুরু করে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেটিঘাটের নিচে শামীমের মরদেহ পাওয়া যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা এক জোড়া জুতা ও একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে শামীমের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a comment