কক্সবাজারের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে সাগরের উত্তাল জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ পর্যটক। এ ঘটনায় আরও এক পর্যটক সাগরে নিখোঁজ রয়েছেন। গত বুধবার বিকেলে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন রামু উপজেলার হিমছড়ি পেঁচারদ্বীপের রেজুখাল ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী চরে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং দুজন চট্টগ্রামের বাসিন্দা। নিহতরা হলেন— ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ির মোকারম হোসেনের ছেলে আল মাহিবুল ইবনে মোকারম ওরফে রোহান (২৩), দক্ষিণখানের মাহবুবুল হকের ছেলে সাইফুল হক জিসান (২৩), চট্টগ্রামের বায়েজিদ শেরশাহ এলাকার মো. এরশাদের ছেলে মো. আকাশ (২০) এবং একই এলাকার মো. কবিরের ছেলে মো. হারুন (২০)। এর মধ্যে নিখোঁজ থাকা হারুনের মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে দুর্ঘটনাস্থলের অদূরে সাগর বিলাস এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। অপরদিকে ঢাকার উত্তরা আজমপুর এলাকার বাসিন্দা এস এম নাফিজুর রহমান নিবিড় (২৩) নামের এক তরুণ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার বিকেলে ঢাকার ও চট্টগ্রামের দুটি পৃথক পর্যটক দল রেজুখাল পেরিয়ে সাগরের মধ্যবর্তী জেগে ওঠা চরে ঘুরতে যান। এ সময় হঠাৎ জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে চরটি দ্রুত তলিয়ে গেলেও বিষয়টি টের পাননি তারা। মুহূর্তের মধ্যেই জোয়ারের শক্তিশালী স্রোতে পর্যটকেরা সাগরে তলিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে চট্টগ্রাম থেকে আসা তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
জীবিত উদ্ধার হওয়া তিন তরুণ—রাকিব হাসান, মো. সানী ও মো. আকাশকে বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তারা জানান, তারা বুধবার দুপুরে ট্রেনে কক্সবাজার পৌঁছে পেঁচারদ্বীপের একটি রিসোর্টে ওঠেন এবং বিকেলে গোসল করতে নেমে এই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হন। অন্যদিকে নিহত ঢাকার রোহান ও জিসানের দলটি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত শিক্ষার্থীর সমন্বয়ে গঠিত ছিল, যারা বান্দরবান ঘুরে কক্সবাজারে এসেছিলেন।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে নিখোঁজ শিক্ষার্থী নিবিড়ের সন্ধানে সাগরে রেসকিউ টিমের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকায় এক রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির শোক কাটতে না কাটতেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল। সমুদ্রসৈকত ও রেজুখালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ চরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন সচেতন মহল।
Leave a comment