দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান–এর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলা ও আইনি জটিলতার নথি সরকারের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই কেস-সংক্রান্ত ফাইলগুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগ থেকেই দেশের বাইরে অবস্থান করছেন সাকিব। এর মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এর আগে সাকিবকে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করায় আবারও তার দেশে ফেরা এবং জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরতে পারেন সাকিব, যা পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজে তাঁর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। তবে এ গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন এই অলরাউন্ডার নিজেই।
বিসিবির এক পরিচালক জানিয়েছেন, সাকিবকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া থেমে নেই এবং তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগও রাখা হচ্ছে। সম্প্রতি এক টক শোতে তিনি বলেন, সাকিব জাতীয় দলের হয়ে আবার খেলতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন। বোর্ড পরিচালকদের সম্মতিক্রমে তাঁকে দলে ফেরানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে সাকিবের বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আইনি বিষয়গুলো নিয়েও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে বিসিবির আলোচনা হয়েছে। এসব নথিপত্র দ্রুত সরকারের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বোর্ড সংশ্লিষ্টরা। আশা করা হচ্ছে, রোববার বা সোমবারের মধ্যেই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে সাকিবের কেস ফাইল সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।
এখন সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে—দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানের জাতীয় দলে ফেরার পথ কতটা দ্রুত সুগম হয়।

Leave a comment