বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ । ১৯৩৬ সালের এই দিনে তিনি বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মনসুর রহমান ছিলেন একজন রসায়নবিদ। সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান আজও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নাম।
শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ তিনি বগুড়া ও কলকাতায় কাটান। পরবর্তীতে পিতার কর্মস্থল করাচিতে অবস্থান করেন এবং সেখানেই তার শিক্ষা জীবন সম্পন্ন হয়। ১৯৫৫ সালে পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমি থেকে তিনি অফিসার হিসেবে কমিশন লাভ করেন। একজন পেশাদার সৈনিক হিসেবে তার কর্মজীবনের সূচনা হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
।১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে খেমকারান সেক্টরে তার অসীম সাহসিকতার জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সেক্টর কমান্ডার হিসেবে সম্মুখযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি স্বাধীনতার পক্ষে তার কণ্ঠস্বর দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।
স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটপূর্ণ সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন উপস্থাপন করেন, যা দেশের রাজনৈতিক চিন্তাধারায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করে। একই সঙ্গে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন, যা একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথ উন্মুক্ত করে।
সময় ও বাস্তবতার প্রয়োজনে প্রায় সাড়ে চার দশক আগে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তার গড়া এই দল দ্রুতই দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। শহিদ জিয়ার মৃত্যুর পর তার সহধর্মিণী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দলকে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় ও বিরোধী রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন। খালেদা জিয়া নিজেও দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
অসাধারণ দেশপ্রেম, সততা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমানকে এখনো শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তার অনুসারীরা। একজন সৈনিক হয়েও তিনি বারবার রাজনৈতিক ও জাতীয় সংকটে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সংকট কেটে গেলে আবার শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনে ফিরে গেছেন—এটি তার চরিত্রের একটি বিরল বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
শহিদ জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান।
আজ ১৯ জানুয়ারি কর্মসূচির প্রথম দিন, সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহিদ জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এ সময় দলের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে। বিএনপি জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া দিনটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, স্বেচ্ছায় রক্তদানসহ বিভিন্ন সেবামূলক কর্মসূচি দিনব্যাপী পালিত হবে।
দ্বিতীয় দিন ২০ জানুয়ারি, বেলা ১১টায় শহিদ জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন, রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন।
রুহুল কবির রিজভী দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিজ নিজ উদ্যোগে শহিদ জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৯০তম জন্মবার্ষিকীতে শহিদ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও স্মরণ আয়োজন নতুন করে তার জীবন, দর্শন ও অবদান নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে—যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার স্থায়ী প্রভাবেরই প্রতিফলন।
Leave a comment