ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের দশম দিনে বাহরাইনের সিতরা দ্বীপের মাহাজ্জা এলাকায় যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার নেপথ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পরিচালিত ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি থেকে ছোড়া ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দায়ী বলে দাবি করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত ৯ মার্চের ওই বিস্ফোরণে শিশুসহ অন্তত ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন এবং অসংখ্য ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রয়টার্সের একটি একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার সময় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে। এর আগে বাহরাইন ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে দাবি করেছিল যে, ইরানের ড্রোন হামলার কারণে এই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রশ্নের মুখে বাহরাইন সরকার প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাজধানী মানামার অদূরে এবং তেল শোধনাগার সমৃদ্ধ সিতরা দ্বীপের ওই এলাকায় তখন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র মোায়েন ছিল।
বাহরাইন সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওই প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত একটি ধেয়ে আসা ইরানি ড্রোনকে মাঝ-আকাশে সফলভাবে প্রতিহত করেছিল। সরকারের দাবি, সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ভূমিতে আঘাত করেনি; বরং মাঝ-আকাশে ধ্বংস হওয়া ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ বা ইন্টারসেপ্টরের প্রতিক্রিয়ায় এই ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাদের মতে, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণেই অনেক বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
যদিও বাহরাইন ও ওয়াশিংটন এই ঘটনার জন্য তেহরানকে দায়ী করে আসছে, তবে মাহাজ্জার ওই বিস্ফোরণে কোনো ইরানি ড্রোনের সরাসরি সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখন পর্যন্ত তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ-প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় প্রতিকূল পরিস্থিতিতে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বেসামরিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে, যা এই ঘটনায় নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বর্তমানে আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বিশেষ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। রয়টার্সের এই নতুন তথ্য প্রকাশের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Leave a comment