বছর ঘুরে আবারও আসছে রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস রমজানুল মোবারক। এ মাস কেবল না খেয়ে থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, গুনাহমুক্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের প্রশিক্ষণকাল। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, রোজা তাঁর জন্য এবং এর প্রতিদান তিনিই বিশেষভাবে প্রদান করবেন (বুখারি, মুসলিম)।
সাহাবায়ে কেরাম (রা.) রমজানের জন্য মাসের পর মাস দোয়া করতেন— যেন তারা এ মাসে পৌঁছাতে পারেন এবং তাদের ইবাদত কবুল হয়। তাই একজন সচেতন মুমিনের জন্য রমজানের আগে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
তাই রমজান আসার আগে এখন থেকেই নিতে হবে যেসব প্রস্তুতি, তা তুলে ধরা হলো— —
১. দৃঢ় নিয়ত ও আত্মপরিবর্তনের সংকল্প
রমজান শুরুর আগেই অন্তরে প্রতিজ্ঞা করতে হবে— এই রমজান হবে জীবনের মোড় ঘোরানো সময়। গুনাহ থেকে ফিরে এসে নতুনভাবে আল্লাহর পথে চলার সংকল্পই হলো প্রকৃত প্রস্তুতির শুরু।
২. তাওবাহ ও ইসতেগফারকে অভ্যাসে পরিণত করা
রমজানের আগেই অতীতের গুনাহের জন্য আন্তরিক তাওবাহ জরুরি। বেশি বেশি পড়ুন:
اَللَّهُمَّ اغْفِرْلِي
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফিরলি — “হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।”
৩. কাজা রোজা আদায়
পূর্বের রমজানের ভাঙতি রোজা থাকলে শাবান মাসেই তা পূর্ণ করা উত্তম। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
৪. রমজানের ফজিলত জানা
কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত রমজানের মর্যাদা জানলে ইবাদতের আগ্রহ বহুগুণে বাড়ে। এ সময় পড়া যেতে পারে—
اَللَّهُمَّ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
“হে আল্লাহ, আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।”
৫. ক্ষমা পাওয়ার অন্তরগত যোগ্যতা অর্জন
দুইটি মারাত্মক গুনাহ থেকে বাঁচা জরুরি—
• শিরক (সব প্রকার)
• হিংসা (হাসাদ)
হিংসা নেক আমল ধ্বংস করে দেয়।
৬. রোজার মাসআলা-মাসায়েল শেখা
রোজা ভঙ্গের কারণ, ফরজ-ওয়াজিব, মাকরুহ বিষয়গুলো না জানলে ইবাদতে ভুল হয়। তাই আগে থেকেই ফিকহভিত্তিক জ্ঞান অর্জন জরুরি।
৭. শাবানে ইবাদতের মহড়া
নফল রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, দান-সদকা—এসবের মাধ্যমে রমজানের জন্য শরীর ও আত্মাকে প্রস্তুত করা যায়।
৮. আগের রমজানের ঘাটতি বিশ্লেষণ
গত রমজানে—
কুরআন কম পড়া, তারাবিহ মিস করা, দান না করা— এসব কারণ চিহ্নিত করে এবার পূরণের পরিকল্পনা নিন।
৯. ২৪ ঘণ্টার রমজান রুটিন তৈরি
সাহরি, নামাজ, কাজ, বিশ্রাম, ইবাদত— সব মিলিয়ে বাস্তবসম্মত রুটিন বানালে সময় অপচয় কমে এবং ইবাদতে ধারাবাহিকতা আসে।
(১০) রমজানের চাঁদ অনুসন্ধানে সুন্নাত জীবিত করা
শাবান মাসের ২৯ তারিখ সন্ধ্যায় রমজানের চাঁদ অনুসন্ধান করা সুন্নত। বর্তমানে অনেকেই শুধু ঘোষণা শোনার অপেক্ষায় থাকেন, ফলে চাঁদ দেখা ও সংশ্লিষ্ট দোয়ার সুন্নত থেকে বঞ্চিত হন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজে চাঁদ দেখতেন এবং সাহাবিদেরও দেখতে বলতেন। নতুন চাঁদ দেখলে তিনি এ দোয়া পড়তেন, اَللهُ اَكْبَرُ اَللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَ الْاِيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَ الْاِسْلَامِ وَ التَّوْفِيْقِ لِمَا تُحِبُّ وَ تَرْضَى رَبُّنَا وَ رَبُّكَ الله
উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা, রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ’।
অর্থ: আল্লাহ মহান। হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের জন্য নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় কর। আর যা তুমি ভালোবাস ও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও—সেই কাজের তৌফিক দাও। আমাদের ও তোমার রব একমাত্র আল্লাহ। (তিরমিজি: ৩৪৫১, মিশকাত: ২৪২৮)
Leave a comment