কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপ, আরাকান আর্মি ও দেশটির সেনাবাহিনীর ত্রিমুখী সংঘর্ষ চলছে। এবার সেখান থেকে ছোড়া গুলিতে বাংলাদেশ সীমান্তে এক শিশু নিহত হয়েছে।
রোববার (১০ জানুয়ারি) সকালে হোয়াইক্যং তেচ্ছীব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটির নাম হুজাইফা সুলতানা আফনান। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আদিল নামের এক যুবক, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয়রা জানান, গত তিন দিন ধরে হোয়াইক্যং সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের তোতারদ্বীপ এলাকায় তীব্র গোলাগুলি চলছিল। ওই অঞ্চলে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী, আরাকান আর্মি এবং মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। এই লড়াইয়ের শব্দ ও বিস্ফোরণে সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের গ্রামগুলোও দিনরাত কাঁপছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবারও একই এলাকায় এক বাংলাদেশি জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তের খুব কাছাকাছি মিয়ানমারের ভেতরে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে বুলেট ও শেল বাংলাদেশের দিকে এসে পড়ছে।
রোববার সকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আরাকান আর্মির কয়েকজন সশস্ত্র সদস্য গুলি ছুড়তে ছুড়তে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেই সময়ই গুলিবিদ্ধ হয় শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান ও যুবক আদিল। আশপাশের লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পথেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই হোয়াইক্যং ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে মানুষজন ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেন। অনেকেই শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে দ্রুত দূরের এলাকায় চলে যান।
একই সঙ্গে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা সীমান্তে অবিলম্বে নিরাপত্তা জোরদার, টহল বৃদ্ধি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষ চললেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ খোকন কান্তি নাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “গুলিতে এক শিশু নিহত হওয়ার খবর আমরা পেয়েছি। একজন যুবক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ শুরু করেছে।”
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষ চলতে থাকায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment