যুক্তরাষ্ট্রের নবনামকরণকৃত ‘ট্রাম্প–কেনেডি সেন্টার’–এ এক অনুষ্ঠানে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ভেনেজুয়েলার আটককৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নিয়ে রসিকতা ও কটাক্ষে সরব হয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হাস্যরসের মধ্য দিয়ে তিনি দাবি করেন, জনসমাবেশে মাদুরো তার নাচের ভঙ্গি নকল করার চেষ্টা করতেন।
বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার সাবেক এই স্বৈরশাসক মঞ্চে উঠে তার মতো করে নাচার চেষ্টা করতেন। এ প্রসঙ্গে নিজের বিখ্যাত নাচ নিয়েও রসিকতা করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, তার স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এই নাচ একেবারেই পছন্দ করেন না। হাসিমুখে তিনি বলেন, “মেলানিয়া এই নাচ ঘৃণা করেন। তিনি বলেন, এটা একদমই ‘আনপ্রেসিডেন্সিয়াল’। এমনকি তিনি মজা করে আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন—তুমি কি কখনো ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টকে (এফডিআর) নাচতে দেখেছ?”
তবে হাস্যরসের আড়ালে ট্রাম্প মাদুরোর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও পুনরুচ্চার করেন। তিনি মাদুরোকে একজন ‘সহিংস ব্যক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, তার শাসনামলে ভেনেজুয়েলায় লাখ লাখ মানুষ নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি গত শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ভেনেজুয়েলায় পরিচালিত মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযান ‘অপারেশন রিজলভ’ (Operation Resolve)–এর ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ওই অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা ছিল ‘চমৎকার’ ও ‘নিখুঁত’ এক সামরিক সাফল্য।
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন হুমকি উপেক্ষা করে মাদুরো নিয়মিত জনসমাবেশে নাচতেন, যা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের বিরক্ত করেছিল। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ দিকে যখন ভেনেজুয়েলার ওপর মার্কিন সামরিক চাপ বাড়ছিল, তখনও মাদুরো ‘নো ওয়ার, ইয়েস পিস’ গানের রিমিক্সে নাচতেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ট্রাম্পের নির্বাচনি জনসভায় ব্যবহৃত ‘YMCA’ গানের নাচের সঙ্গে তুলনীয় হয়ে ওঠে।
বক্তব্যের শেষভাগে ট্রাম্প ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, মাদুরোকে ঘিরে ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক অবস্থান কেবল ব্যক্তিগত কটাক্ষ নয়; বরং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর রাজনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
Leave a comment