আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি জানান, জিয়াউর রহমান নারীদের উন্নয়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নারীবিষয়ক কার্যক্রমের সূচনা করেছিলেন।
রবিবার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতার পর দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীদের সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন জিয়াউর রহমান। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন।
রাষ্ট্রপতি জানান, নারীবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়। পরে ১৯৭৮ সালে এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো ছিল বাংলাদেশের নারী উন্নয়ন নীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, জিয়াউর রহমান যে ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী রূপ দেন।
তার ভাষায়, খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষার প্রসারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ চালু করা উল্লেখযোগ্য।
রাষ্ট্রপতি বলেন, মেয়েদের শিক্ষায় আগ্রহ বাড়াতে খালেদা জিয়া শিক্ষা উপবৃত্তি কর্মসূচিও চালু করেছিলেন। এই উদ্যোগ দেশের নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নারী শিক্ষার বিস্তারে নেওয়া এসব উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশের নারী শিক্ষার এই কর্মসূচিগুলোকে তৃতীয় বিশ্বের জন্য একটি সফল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকারও নারী শিক্ষার বিস্তার ও ক্ষমতায়নে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, মেয়েদের জন্য স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের সহায়তা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সরকার নতুন একটি সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করেছে। এই কর্মসূচি আগামী ১০ মার্চ থেকে শুরু হবে।”
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, নারী-পুরুষ সমতার ভিত্তিতে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধায় নারীদের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ নারী অধিকারকর্মী ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় নারী উন্নয়ন ও সমতা প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
Leave a comment