ভোররাতে সিলেটসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা অল্প সময়ের জন্য হলেও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ২।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের ধিং এলাকায়। সংস্থাটি জানায়, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে, যা মাঝারি গভীরতার ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভূমিকম্পটি অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং কেউ কেউ নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। যদিও ভূমিকম্পটি খুব দীর্ঘস্থায়ী ছিল না, তবুও ভোররাতে হঠাৎ কম্পনের কারণে অনেকে মানসিকভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন।
ভূমিকম্পের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। সিলেট ছাড়াও দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও অন্যান্য কয়েকটি জেলার বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করার কথা জানিয়ে পোস্ট দেন। কেউ কেউ জানান, জানালা ও দরজা কেঁপে ওঠে, আবার কোথাও কোথাও ভবনের ভেতরে থাকা ঝুলন্ত জিনিস নড়াচড়া করতে দেখা গেছে।
এখন পর্যন্ত এই ভূমিকম্পে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং কোথাও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চল ভারতের আসাম ও মেঘালয় অঞ্চলের ভূমিকম্প বলয়ের কাছাকাছি হওয়ায় এখানে মাঝারি থেকে কখনো কখনো তুলনামূলক শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আসাম অঞ্চলে উৎপত্তিস্থল হওয়া ভূমিকম্পগুলোর প্রভাব প্রায়ই বাংলাদেশে অনুভূত হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ৫ থেকে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প সাধারণত মাঝারি মাত্রার হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও দুর্বল ও পুরোনো স্থাপনার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে কেন্দ্রস্থল যদি গভীরে অবস্থান করে, তাহলে ভূ-পৃষ্ঠে এর প্রভাব তুলনামূলক কম হয়।
Leave a comment