দীর্ঘ প্রস্তুতি ও ব্যাপক যাচাই-বাছাই শেষে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নতুন উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বোর্ড নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।”
বিমানের সূত্র জানায়, নতুন ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে—৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেল
নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে দেশের আন্তর্জাতিক রুটে সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং বহরের সামর্থ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক উভয় ক্ষেত্রে বিমানের কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে উড়োজাহাজ বিক্রয় ও ডেলিভারি সম্পর্কিত প্রস্তাব পাঠায়। পরে ২০ ডিসেম্বর সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনার জন্য বোর্ডের কাছে উপস্থাপন করা হয়। সভায় প্রস্তাবিত মূল্য, শর্তাবলি এবং ডেলিভারি সময়সূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিক আলোচনায় এগিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়।
বোর্ড সদস্যরা বলেন, দেশের বিমান চলাচল সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার এবং ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা বিবেচনা করে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পেছনে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক দিকও ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর অংশ হিসেবে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকার বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতির পর ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা এয়ারবাসও বাংলাদেশের বাজারে সক্রিয় হয়। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত কূটনৈতিকভাবে এয়ারবাস বিক্রির পক্ষে উদ্যোগ নিয়েও শেষ পর্যন্ত বোয়িংকেই চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, সব সরকারি অনুমোদন ও আর্থিক ব্যবস্থা সম্পন্ন হলে বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে নতুন উড়োজাহাজ সরবরাহ শুরু হবে, যা বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান খাতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
Leave a comment