বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)-এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এসসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর পেশাজীবী ফোরাম আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বক্তব্যের এক পর্যায়ে এমপি আল আমিন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একই মঞ্চে বসতে অস্বীকৃতি জানান।
অনুষ্ঠানে উভয়েই আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে এমপির মন্তব্যের পরপরই উপস্থিত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মোহাম্মদ হাতেম অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলে তার সমর্থনে শত শত ব্যবসায়ী ও অনুসারী এমপি আল আমিনকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এমপি অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় ব্যবসায়ীরা তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যা দেন।
বিসিক শিল্পাঞ্চলের একাধিক শিল্পমালিক বলেন, প্রতিকূল পরিবেশেও স্থানীয় শিল্প টিকিয়ে রাখতে বিকেএমইএ সভাপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দাবি, “আজ তিনি না থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠানই গাজীপুর বা অন্য জেলায় স্থানান্তরিত হয়ে যেত। আমাদের অভিভাবককে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা দুঃখজনক।”
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনসমক্ষে এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য পরিস্থিতিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক অঞ্চল) মো. হাসিনুজ্জামান বলেন, রাত ৮টার দিকে এমপি আল আমিনকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে শহরের চাষাড়ায় তার দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, “হাতেম সাহেব ও এমপি আল আমিন দুজনই আমাদের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে সমাধানের চেষ্টা করছি।”
ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্প ও রাজনীতির সম্পর্ক সংবেদনশীল; পারস্পরিক সম্মান বজায় না থাকলে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
Leave a comment