পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ আলম (শানু) বলেছেন, যারা বিএনপিকে মানবে না তারা ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ড পাবে না। তাঁর এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ২৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে শাহ আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘যারা আজকের মিটিংয়ে আসেন নাই, তাঁদের ছবি তুলে রাখেন। আমরা যারা পারিবারিক কার্ড শুরু করেছি, যারা বিএনপিকে মানবে না তারা ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষি কার্ড পাবে না, দলীয় সুযোগ-সুবিধাও পাবে না। দল করবেন, বিএনপি–তারেক রহমানের কথা শুনবেন না, দলের কথা শুনবেন না, আপনাগোরে পূজা দিমু? কোনো সন্ত্রাসী আর চলবে না এ দেশে। সৈয়দ নাই, তালুকদার নাই, জমিদার নাই।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার চরবোরহান ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে একটি কর্মিসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আলোচনা সভার একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ আলম। এ সময় তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহ আলম (শানু) বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাঁদের সংগঠিত করতেই তিনি ওই ধরনের কথা বলেছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, একটি মহল সম্পূর্ণ বক্তব্য না দেখিয়ে আংশিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
তবে দলের ভেতর থেকেই এ বক্তব্যের সমালোচনা এসেছে। দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফকরুল জামান (বাদল) বলেন, তিনি শাহ আলমের বক্তব্য শুনেছেন এবং এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া ঠিক হয়নি। তাঁর মতে, ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড সর্বজনীন কর্মসূচি; এখানে কোনো দল বা মতের বিষয় থাকতে পারে না। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার জন্য তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান (টোটন) বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড চালু করা হয়েছে এবং নিয়ম অনুযায়ী এসব সুবিধা পাওয়ার অধিকার সব নাগরিকের রয়েছে। এখানে কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর বিষয় নেই। তাঁর মতে, শাহ আলম বিষয়টি ভুলভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
Leave a comment