মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বাহরাইনের প্রধান তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার পর বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি বাপকো এনার্জিস তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ‘ফোর্স মজিউর’( (অপ্রতিরোধ্য পরিস্থিতি) ঘোষণা করেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে বাহরাইনের একমাত্র ও বৃহত্তম তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালানো হয়। শোধনাগারটি সিত্রা দ্বীপ-এ অবস্থিত। হামলায় শোধনাগারের একটি ইউনিটে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এর ফলে শোধনাগারের স্বাভাবিক তেল রপ্তানি ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বাপকো এনার্জিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আঞ্চলিক সংঘাত এবং শোধনাগারে সরাসরি হামলার কারণে তারা অনেক চুক্তিবদ্ধ সরবরাহ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হচ্ছে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে, তাই স্থানীয় বাজারে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
হামলার পর শোধনাগারের দিক থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সিত্রা এলাকায় কিছু ক্ষয়ক্ষতি ও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও শোধনাগারের ভেতরে কোনো প্রাণহানির তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যকার সংঘাতের দশম দিন চলছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর তুলনায় প্রায় ৬০% বেশি।
বাহরাইনের আগে কাতার এবং কুয়েতও তাদের জ্বালানি রপ্তানিতে একই ধরনের ‘ফোর্স মজিউর’ ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
Leave a comment