পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিজ বসতঘরের রান্নাঘর থেকে আয়েশা (১১) নামে স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য পুলিশ উদঘাটন করেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনায় অভিযুক্ত আয়েশার চাচা রুবেল ও নিহতের বাবা বাবুল প্যাদাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আদালতে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্তরা। এর আগে, রোববার (৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের নিজ বসতবাড়ির রান্নাঘর থেকে স্কুলছাত্রী আয়েশা মনির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা যায়, দুপুরে চাচা রুবেলকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নিহতের বাবার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন রুবেল। পরে বাবুলকেও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত আয়েশার মা সৌদি আরবে থাকেন। বাড়িতে তাদের সঙ্গে বসবাস করা দুঃসম্পর্কের আত্মীয়ের সঙ্গে আয়েশা তার বাবাকে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনাটি মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে না জানানোর অনুরোধ করেন বাবুল। এরপরই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। এদিকে বাড়িতে প্রতি বেলায় খাবার খেতে আসতেন তার চাচাতো চাচা রুবেল। রুবেলকে বিভিন্ন সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে নিজ কন্যা আয়েশাকে হত্যার নির্দেশ দেন বাবুল। তার নির্দেশেই আয়েশাকে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রুবেল। এরপরে বাবা ও চাচা মিলে মরদেহ বস্তাবন্দি করে গুমের চেষ্টা করেন। তারা গুমে ব্যর্থ হয়ে বস্তাটি রান্নাঘরের এক কোণে রেখে দেন। যা পরে উদ্ধার করে পুলিশ।
রাঙ্গাবালী থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, চাচা রুবেলের স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের বাবাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। আদালতে তারা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাছাড়া প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সব তথ্য প্রমাণও পাওয়া গেছে। আদালতে বিচারের জন্য চার্জশিট দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।
Leave a comment