লন্ডনের প্রাণকেন্দ্র ট্রাফালগার স্কয়ারে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারীদের ওপর বড় ধরনের ধরপাকড় অভিযান চালিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশ। শনিবার (১১ এপ্রিল) ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ নামক ক্যাম্পেইন গ্রুপের ওপর আরোপিত সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়।
বিক্ষোভের আয়োজক সংগঠন ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’-এর দাবি অনুযায়ী, এদিন প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ ট্রাফালগার স্কয়ারে সমবেত হন। আন্দোলনকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “আমি গণহত্যার বিরোধিতা করি, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন করি।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশ অতর্কিত অভিযান চালায় এবং কয়েকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন লাঠিতে ভর দিয়ে চলা বয়স্ক নারীও ছিলেন, যা উপস্থিত জনতাকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সংগঠনের সদস্য হওয়া বা সমর্থন প্রকাশ করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ, যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড। মূলত ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা এবং সামরিক ঘাঁটিতে অনুপ্রবেশের মতো সরাসরি কর্মসূচি পরিচালনার দায়ে তাদের ওপর এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
তবে সম্প্রতি একটি আদালত সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘অতিরিক্ত কঠোর’ এবং ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করে রায় দিয়েছিল। কিন্তু ব্রিটিশ সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার পর পুনরায় গ্রেপ্তার অভিযান শুরু হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, মেট্রোপলিটন পুলিশের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড সরাসরি গণতান্ত্রিক অধিকার এবং বাকস্বাধীনতার ওপর আঘাত হানছে। তারা অনতিবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং সন্ত্রাস আইনের আওতায় আটক সমর্থকদের মুক্তি দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন প্রতিবাদকারী আলজাজিরাকে জানান, “দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে এবং সরকার ভিন্নমত দমনে পুলিশকে ব্যবহার করছে।” সরকারের আপিল আবেদনের ওপর আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল আদালতে চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মানবাধিকার কর্মীরা আশঙ্কা করছেন, এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ব্রিটেনে প্রতিবাদ ও সমাবেশের অধিকারকে আরও সীমিত করে দিতে পারে।
Leave a comment