ফরিদপুর শহরের অনাথের মোড় এলাকায় একটি বিউটি পার্লার থেকে শান্তা ইসলাম (৩৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাঁঝের মায়া ভবনের নিচতলায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন ‘ইয়াং লাইফ বিউটি পার্লার অ্যান্ড লেজার সেন্টার’-এর একটি কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শান্তা ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের কাইয়ুম উদ্দিন মাতুব্বরের ডাঙ্গী গ্রামের মৃত কানু মোল্লার মেয়ে।
শান্তার ভাই রাজিব মোল্লা জানান, ২০২০ সালে শান্তার সংসার ভেঙে যায়। তার স্বামী আকিদুল ইসলাম ওরফে রুমনের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে সারা ইসলামকে নিয়েই তিনি জীবনযাপন করছিলেন।
রাজিব বলেন, “মঙ্গলবার ভোরে আমার ভাগ্নি ফোন করে জানায়, মা আর নেই। পরে গিয়ে দেখি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছে আমার বোনের মরদেহ। তার আর্থিক কোনো সমস্যা ছিল না। মাত্র আগের রাতেও আমরা সবাই হাসপাতালে মাকে দেখতে গিয়েছিলাম।”
পার্লারের এক কর্মচারী লাভলী আক্তার জানান, ঘটনার রাতে শান্তা পার্লারের শয়নকক্ষে ছিলেন। রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত তিনি প্রাক্তন স্বামী আকিদুল ইসলামের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
লাভলী বলেন, “ম্যাডাম চিৎকার করে কথা বলতে শুরু করলে আমি দৌড়ে যাই। কিন্তু তিনি আমাকে বের করে দিয়ে ভেতর থেকে দরজা আটকে দেন। এর পর আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।”
ফরিদপুর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
Leave a comment